প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) মধ্যেই ‘আল তাওইলাহ’ শোধনাগারে পুনরায় উৎপাদন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ফলে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে। চলতি বছর ইরান যুদ্ধ চলাকালীন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শোধনাগারটি। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
গত শুক্রবার লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) তিন মাস মেয়াদি অ্যালুমিনিয়ামের চুক্তিভিত্তিক দাম প্রতি টনে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৪৪ ডলারে। এর আগে গত মঙ্গলবার সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় ধাতুটির দাম সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছায়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং নরওয়ের উৎপাদক প্রতিষ্ঠান নরস্ক হাইড্রোর ব্রাজিলের শোধনাগারে কাঁচামাল উৎপাদন কমানোর ঘোষণার কারণে দাম বেড়ে যায়।
ইউএইর ইজিএ জানিয়েছে, গত মার্চে ইরানি হামলার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া আল তাউইলাহ শোধনাগারটির বর্তমানে মাত্র ১৮ শতাংশ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে হরমুজের বিকল্প রফতানিতে পথ ব্যবহার করায় বিক্রিতে খুব বেশি ধস নামেনি। ফলে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) প্রতিষ্ঠানটির মোট বিক্রি মাত্র ৩২ শতাংশ কমে ৯ লাখ ৩৯ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।
বাজারের সাম্প্রতিক এ স্বস্তি ধাতুটির প্রিমিয়াম বা অতিরিক্ত সংযোজিত মূল্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। ইউরোপে কাঁচামাল পরিবহন, কর ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) দামের অতিরিক্ত প্রিমিয়াম কমে টনপ্রতি ৪৮৭ ডলারে নেমে এসেছে। গত মে মাসে তা সর্বোচ্চ ৬২১ ডলারে পৌঁছেছিল। তবে এ প্রিমিয়াম যুদ্ধ শুরুর আগের মূল্যের চেয়ে এখনো ৩৬ শতাংশ বেশি।
অ্যালুমিনিয়ামের দাম কমলেও এলএমইতে অন্য ধাতুর বাজারে মিশ্র কিন্তু ইতিবাচক ধারা লক্ষ করা গেছে। বৈশ্বিক বাজারে তামা বা কপার প্রতি টন ১৪ হাজার ১৩৪ ডলারে কেনাবেচা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার একটি কারখানায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা এবং যুক্তরাষ্ট্রে কপারের চাহিদা বাড়ায় বিশ্বজুড়ে সরবরাহ সংকটের ভয় তৈরি হয়েছে।
এদিকে জরুরি সরবরাহের জন্য তামার নগদ প্রিমিয়াম বেড়ে মঙ্গলবার প্রতি টনে ১৯৬ ডলারে ওঠে, যা গত অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। তবে তামার শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশ চীনে চড়া দামের কারণে ক্রেতাদের ধাতুটির প্রতি আগ্রহ কমে গেছে। অন্য ধাতুর মধ্যে দস্তা বা জিঙ্ক ৩ হাজার ৭৬৩ ডলার ৫০ সেন্ট, নিকেল ১৬ হাজার ৭৮৫ ডলার, সিসা ১ হাজার ৮৮৯ ও টিন ৫৬ হাজার ২০০ ডলারে লেনদেন হয়।